কতক্ষণ পড়া
পরীক্ষার মুখে এই সময় দিনে ১০-১২ ঘণ্টা পড়লে ভাল। তবে, রাতে প্রায় সাত ঘণ্টা ঘুম একান্ত ভাবে দরকার। একনাগাড়ে পড়ার চেয়ে তিন ঘণ্টা অন্তর মিনিট ১২-১৫ বিশ্রাম নিলে ক্লান্তি এড়ানো যাবে। রাতে তাড়াতাড়ি শুয়ে ভোরে পড়ার অভ্যাস করতে পারলে ভাল।

রুটিন ভাগ
মুখস্থ করার কাজটা সকাল থেকে বিকেলের মধ্যে করে নেওয়া ভাল। সন্ধ্যার পর থেকে লিখে অভ্যাস করা উচিত। প্রতি দিন অঙ্কের একটা টেস্ট পেপারের সমাধান করা দরকার। রসায়ন-ভৌতবিজ্ঞান এমন ভাবে আয়ত্তে থাকা দরকার যাতে রোজ না পড়লেও যে কোনও সময় ‘মক টেস্ট’ দেওয়া যায়। সন্ধ্যার পর অনেকটা সময় থাকে। এই সময় পরীক্ষাগুলো দিলে ভাল। জীববিজ্ঞানের উত্তর লেখা ছাড়াও ডায়াগ্রামের উপর  জোর দেওয়া দরকার। এটা নিয়মিত অভ্যাস করার সময় রুটিনে রাখতে হবে।


আর্টস
ইংরেজি-বাংলায় ভাল করতে গেলে নিয়মিত ঘড়ি ধরে উত্তর লিখতে হবে।  ইতিহাসের ক্ষেত্রে একটি বই পড়লেই হয় না। পাঠ্যপুস্তকের পাশে রেফারেন্স বই (প্রয়োজনে একাধিক)  এবং বাড়তি নোট ব্যবহার করে উত্তর তৈরি করে রাখা ভাল। ভূগোল ভাল করে পড়া ছাড়া নিখুঁত ডায়াগ্রাম ও ম্যাপ পয়েন্টিং-এ অভ্যস্ত হতে হবে।

সায়েন্স
প্রথমেই বলি, প্রতিটি বিষয় সম্পর্কে যেন স্পষ্ট ধারণা থাকে। অঙ্কের ক্ষেত্রে পর্ষদের বই হাতের তালুর মত দখলে রাখা দরকার। আগের বছরগুলোর টেস্ট পেপার সমাধান  করলে আরও ভাল হয়। মেনসুরেশন ও ইন্টারেস্টের নানা সূত্র, জ্যামিতির রাইডার ও থিয়োরেম, কন্টিনিউড অপারেশনের বিভিন্ন অপারেশন প্রভৃতি যেন রপ্ত থাকে।
ভৌতবিজ্ঞান ও রসায়নে পাঠ্য ও সহায়ক বই মিলিয়ে উত্তর তৈরি করো। সব অধ্যায়ই গুরুত্বপূর্ণ। এর মধ্যে আলোর লেন্সের ছবি এঁকে অভ্যাস করবে। আর কারেন্ট ইলেকট্রিসিটির সার্কিট আঁকবে। মডার্ন ফিজিক্সের সমীকরণগুলোও মনে রাখবে।
রসায়ন বার বার খুঁটিয়ে পড়বে। অ্যাটমিক স্ট্রাকচার, পিরিয়়়ডিক টেবিল, মিনারেল অ্যাসিডস্্ ও অর্গানিক কেমিস্ট্রির উত্তর লিখে লিখে অভ্যাস করবে। অ্যাসিড-এর সমীকরণগুলো ভাল ভাবে আয়ত্ত করবে। গ্যাসীয় অবস্থা, ওজন নির্ণয় এবং ‘মোল কনসেপ্টের’ অঙ্ক যেন হাতের মুঠোয় থাকে। জীববিজ্ঞানের প্রতিটি অধ্যায়ে তিন ‘ডি’, মানে ডেফিনিশনস, ডেসক্রিপশনস এবং ডিফারেন্সেস ভাল করে পড়বে। ডায়াগ্রাম অভ্যাস করবে।

শিয়রে পরীক্ষা
পরীক্ষার আগের দিন গুরুত্বপূর্ণ। তার আগেই প্রত্যেকটি বিষয়ের প্রস্তুতি এমন ভাবে করতে হবে যাতে নিজের উপর পূর্ণ আস্থা থাকে।  বিজ্ঞানের পরীক্ষাগুলির আগে বিভিন্ন অধ্যায়ের উপর চোখ বুলিও। পারলে, ঘড়ি ধরে ২০১৪-র পরীক্ষার প্রশ্নপত্রের উত্তর অভ্যাস করে রেখো। ইংরেজি-বাংলার আগের দিন পাঠ্যগুলি ভাল করে পড়ে নিয়ে উত্তর ও রচনার সূত্রগুলো দেখবে। ইতিহাসের ক্ষেত্রে বই-নোটস-সহায়ক বই মিলিয়ে তৈরি উত্তরপত্রে চোখ বোলাও বারবার। মক টেস্টের খাতায় নিজের ভুল দেখে নিও। পরীক্ষার আগের দিন নতুন বই পড়তে হবে না। তাতে বিভ্রান্তি ও চাপা উত্তেজনা বাড়তে পারে। পরীক্ষার আগে অন্য ছাত্র-ছাত্রীদের সঙ্গে বেশি আলোচনা নিষ্প্রয়োজন।

পরীক্ষার সময়ে
পরীক্ষার আগের রাতটা পড়াশোনা ঠিক নয়। ঘুম যেন পর্যাপ্ত হয়। আগের দিন ও পরীক্ষার দিন হাল্কা খাবার খাবে। মাথা ঠান্ডা করে, ঘড়ির সময় হিসাব করে উত্তর দেবে। শেষে যেন একটু সময় থাকে, রিভাইসের জন্য।

পরীক্ষার পর
পরীক্ষা দিয়ে এসে বিশ্রাম নিও। পরীক্ষা কেমন দিয়েছে, তা নিয়ে বেশি মাথা ঘামিও না।  যেটা হয়ে গিয়েছে, সেটা নিয়ে ভেবে লাভ নেই।  এক সপ্তাহ শুধু বই পড়া, গান শোনা, বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা-মজা নিয়ে থেকো। পারলে বেড়িয়ে এসো। উচ্চ মাধ্যমিকের বিশাল পাঠ্যসূচিতে আর সময় পাবে না।