‘‘Arise! Awake! Stand up and fight!’’—এক কথায় মাধ্যমিক-উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীদের এটাই বলার আমার। অলস ও নির্লিপ্ত হয়ে বসে থাকলে চলবে না। শেষবেলা ঝাঁপিয়ে পড়াশোনা করো। আত্মবিশ্বাস, সাহস ও অধ্যাবসায়—তিনের মিলনে ধরা পড়বে সাফল্য।



মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীদের প্রতি
হাতে আর মাত্র তিন সপ্তাহ।
• সমস্ত বিষয়ের পাঠ্যপুস্তকগুলো একবার আগাগোড়া ঝালিয়ে নিতে হবে। পাঠ্যপুস্তক বাদ দিয়ে যারা সহায়ক বই পড়ে, তাদের রেজাল্ট কখনওই খুব ভাল হতে পারে না।
• গুরুত্বপূর্ণ অংশগুলো বেশি গুরুত্ব দিয়ে পড়তে হবে। পড়া হয়ে গেলে বই বন্ধ করে খাতায় লিখে ফেলবে। লেখাটা এবার বইয়ের সঙ্গে মিলিয়ে নাও। নিখুঁত, নির্ভুল হতে হবে উত্তর। না হলে যে ভুলগুলো রয়েছে, তা সংশোধন করে লেখো।  কোনও প্রশ্নের উত্তর লেখার সময় তুমি কতটা জান থেকে কতটা নির্ভুল ও যথার্থ ভাবে পরিবেশন করতে পারছ, সেটাই গুরুত্বপূর্ণ। ইংরেজি বা বাংলার মতো  ভাষা বিষয়ে তো বটেই, অন্য বিষয়েও বাক্য গঠন ব্যাকরণগত ভাবে শুদ্ধ হচ্ছে কি না সেটা খুব জরুরি।  বানান ভুল, অপ্রাসঙ্গিক লেখা, কাটাকুটি যাতে না-হয় নজর রাখতে হবে।
• টেস্ট পেপার ধরে ‘মক টেস্ট’ দিতে পারলে সময়জ্ঞান বাড়বে। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে উত্তরপত্র শেষ করতে না পারলে মুশকিল। আসলে প্রশ্নে ঠিক যতটা জানতে চাওয়া হচ্ছে, ততটাই লিখতে হয়। শব্দসংখ্যা বাঁধা থাকলে মানতে হবে। অনেক বেশি জানা থাকলেও অনেক লেখা যাবে না। এটা মানলে সময়ে শেষ না করতে পারার কারণ নেই।
• বারবার ‘মক টেস্ট’ দিলে খাতা সাজানোর মানসিকতাটাও পোক্ত হয়। উপরে ও বাঁ দিকে মার্জিন, খাতার ডান দিকে লাইন টেনে ‘রাফ’, প্রতি উত্তর শেষে দাগ টেনে দেওয়া ইত্যাদি সহজ নিয়মগুলো মেনে ‘মক টেস্ট’ দিলে এগুলো অভ্যাসে পরিণত হয়ে যাবে।
• প্রতি দিন রুটিন মেনে পড়া ও লেখার অভ্যাস চালিয়ে যেতে হবে। যে রুটিনটা বানিয়েছ, সেটা শুধু দেওয়ালে ছবি হয়ে রয়ে যায় না যেন—চেষ্ট করো হুবহু রুটিন মানতে।
• খুব বেশি ঘুম বা খুব কম ঘুম— কোনওটাই কাম্য নয়। শরীর সুস্থ রাখতে হাল্কা অথচ পুষ্টিকর খাবার খেতে হবে। মন সুস্থ রাখার জন্য সকাল ও সন্ধ্যায় কিছু সময় অবশ্যই ধ্যান করতে হবে।
উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীদের প্রতি

মাধ্যমিক পরীক্ষায় ভাল ফল করা আর উচ্চ মাধ্যমিকে ভাল ফল করা এক রকমের নয়। অনেক ছাত্র মাধ্যমিকে ভাল ফল করেও উচ্চ মাধ্যমিকে তা ধরে রাখতে পারে না। কারণ, অমনোযোগিতা ও আলস্য। মনোযোগী, পরিশ্রমী ও প্রত্যয়ী না হলে উচ্চ মাধ্যমিকে ভাল ফল করা কঠিন। এখানে সিলেবাস অনেক বেশি, বিশেষ করে যারা বিজ্ঞান বিভাগে পড়ছে।
• অনেক সময় বিজ্ঞান বিভাগের পড়ুয়ারা পড়াশোনার চাপে বাংলা ও ইংরেজিতে গুরুত্ব দেয় না। এটা একেবারেই ঠিক নয়। পরীক্ষায় ভাল নম্বর পেতে হলে প্রতিটি বিষয়েই ভাল ফল করতে হবে।
• পাঠ্যপুস্তক ভাল করে পড়লেও উত্তর লেখার সময় চেষ্টা করবে নিজের ভাষায়, নিজের মতো করে তা পরিবেশন করতে।
• উদ্বেগ ও ভয় থেকে মানসিক স্থৈর্য নষ্ট হয়। এগুলো অবষশ্যই কাটাতে হবে।
• প্রতি দিন প্রতি বিষয় পড়া-লেখা হল কি না মিলিয়ে দেখা প্রয়োজন। কোনওটা কোনও দিন বাদ পড়ে না যেন।
• মাধ্যমিকের প্রস্তুতির মতোই এক্ষেত্রেও ‘মক টেস্ট’ দিয়ে যেতে হবে।  নির্দিষ্ট সময়ের কিছুটা আগে উত্তর লেখা শেষ করে পুরোটা পড়ে নিতে হবে। বানান ভুল থাকলে সেটা ঠিক করে ফেলতে পারবে, আবার কোথাও কোনও তথ্য ভুল থাকলে ঠিক করে ফেলতে পারবে। অনেক সময় উত্তরপত্র ‘রিভিসন’ দিতে গিয়ে দেখা যায় কোনও প্রশ্নের একটা অংশ বাদই রয়ে গিয়েছে। বাড়ি গিয়ে সেটা আবিষ্কার না করে পরীক্ষার হলেই যদি ধরে ফেলতে পারো—
সব কূল রক্ষা পায়।